ঢাকা, ১৫ এপ্রিল ২০২০ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মালদ্বীপে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১০০ টনের অধিক খাদ্য, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের এসব সহায়তা নিয়ে দ্বীপ রাষ্ট্রটির উদ্দেশে আজ চট্রগ্রামের নেভাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ রওনা করবে। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তায় জানানো হয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ চট্রগ্রাম থেকে মালদ্বীপে ১০০ টনের বেশি খাদ্য, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে যেতে প্রস্তুত করা হয়েছে। জাহাজটি আজ মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হবে।
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের জনসংখ্যা চার লাখের কিছু বেশি। দেশটিতে বিদেশি অভিবাসীর সংখ্যাই প্রায় দুই লাখের মতো। এর মধ্যে সেখানে ৭০ থেকে ৮০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। যাদের একটি অংশের বৈধ কাগজপত্র নেই। করোনাভাইরাসের ফরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সম্প্রতি কয়েকটি দেশ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে চাপ দেয়। এর মধ্যে মালদ্বীপও রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমনকে তার দেশে বসবাস করা বৈধ কাগজপত্র না থাকাদের দেশে ফেরানোর কথা বলেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক করোনাভাইরাসে টালমাটাল পরিস্থিতিতে মালদ্বীপ প্রায় দুই লাখের মতো অভিবাসীর খাবার জুটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশটিতে ত্রাণ যাচ্ছে। মূলত সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশি কর্মীরা ছাড়াও সরকারের পাঠানো এই ত্রাণ দেশটিও প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দেশটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এসব ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহের কাজ করবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, দুর্যোগ পরিচালনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর জেনারেল, সম্পর্কিত জেলা প্রশাসন এবং সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কিছু বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিকাল সংস্থা খুব অল্প সময়ের মধ্যে মালদ্বীপের সহায়তার উপকরণ সংগ্রহ করার জন্য একসঙ্গে কাজ করেছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
বার্তায় আরও জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় দেশটির সঙ্গে বারবার বাংলাদেশ সংহতি প্রকাশ করেছে। বার্তায়, করোনা মোকাবিলায় সার্কের বিশেষ তহবিলে বাংলাদেশের ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
Leave a Reply